ইন্ডিয়ান ভিসা আবেদন (IVAC Bangladesh): আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় সব তথ্য
আপনি কি ভারত ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন? টুরিস্ট, মেডিকেল বা বিজনেস—যে কারণেই হোক না কেন, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা পাওয়ার একমাত্র অনুমোদিত মাধ্যম হলো IVAC Bangladesh (Indian Visa Application Center)।
আজকের ব্লগে আমরা আলোচনা করব কীভাবে আপনি সঠিক পদ্ধতিতে ভিসার জন্য আবেদন করবেন, ওয়েবসাইট (ivacbd.com) কীভাবে ব্যবহার করবেন এবং আবেদনের সময় কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন।
১. IVAC Bangladesh কী?
IVAC হলো ভারতীয় হাই কমিশনের একমাত্র অফিশিয়াল পার্টনার, যারা বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসার আবেদন গ্রহণ এবং পাসপোর্ট ডেলিভারি কার্যক্রম পরিচালনা করে। বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ সারা বাংলাদেশে এদের অনেকগুলো শাখা রয়েছে।
অফিশিয়াল ওয়েবসাইট:
২. অনলাইন ভিসা আবেদন করার ধাপসমূহ
ভারতীয় ভিসার জন্য আবেদন প্রক্রিয়া এখন অনেকটাই সহজ এবং ডিজিটাল। নিচে ধাপগুলো দেওয়া হলো:
অনলাইন ফর্ম পূরণ: প্রথমে
সাইটে গিয়ে নির্ভুলভাবে ফর্ম পূরণ করতে হবে।indianvisa-bangladesh.nic.in ছবি আপলোড: সাম্প্রতিক তোলা ২ ইঞ্চি বাই ২ ইঞ্চি সাইজের সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের ছবি আপলোড করুন।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও প্রিন্ট: ফর্মটি সাবমিট করার পর তার একটি প্রিন্ট কপি নিন।
ভিসা ফি প্রদান: IVAC-এর নির্ধারিত ফি (বর্তমানে সাধারণত ৮০০ টাকা + ব্যাংক চার্জ) অনলাইনে বা নির্ধারিত ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিন।
৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (Checklist)
আবেদনের সময় আপনার সাথে নিচের কাগজগুলো থাকা বাধ্যতামূলক:
সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে তোলা ছবি (২ কপি)।
বর্তমান পাসপোর্ট (ন্যূনতম ৬ মাস মেয়াদ থাকতে হবে) এবং পূর্বের সকল পাসপোর্ট।
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা জন্ম সনদের ফটোকপি।
ইউটিলিটি বিলের কপি (বিদ্যুৎ, গ্যাস বা পানির বিলের কপি যা বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে কাজ করে)।
পেশার প্রমাণপত্র (NOC, ট্রেড লাইসেন্স বা স্টুডেন্ট আইডি কার্ড)।
ব্যাংক স্টেটমেন্ট (সর্বনিম্ন ২০,০০০ টাকা ব্যালেন্সসহ) অথবা ডলার এন্ডোর্সমেন্ট (ন্যূনতম ১৫০ ডলার)।
৪. IVAC-এর সেবা ও সুবিধাসমূহ
আবেদনের অবস্থা যাচাই (Track Application): আপনার পাসপোর্টটি এখন কোন অবস্থায় আছে তা সহজেই ট্র্যাক করা যায়।
ভিসা ফি পেমেন্ট: সাইট থেকে সরাসরি অনলাইনে ফি জমা দেওয়া যায়।
শাখা সমূহের তালিকা: আপনার নিকটস্থ IVAC সেন্টারটি কোথায় তা জেনে নিতে পারেন।
৫. সাধারণ কিছু ভুল যা এড়িয়ে চলবেন
ভুল তথ্য: পাসপোর্টের তথ্যের সাথে অনলাইন ফর্মে দেওয়া তথ্যের মিল না থাকলে ভিসা রিজেক্ট হতে পারে।
পুরানো ছবি: ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা না হলে বা ছবি অনেক পুরনো হলে সমস্যা হতে পারে।
ইউটিলিটি বিল: বিলের কপিটি অবশ্যই বিগত ৬ মাসের মধ্যে হতে হবে।
শেষ কথা
সঠিকভাবে তথ্য এবং সঠিক ডকুমেন্ট জমা দিলে ভারতীয় ভিসা পাওয়া এখন অনেক সময়ের ব্যাপার মাত্র। দালালের খপ্পরে না পড়ে সরাসরি IVAC Bangladesh-এর ওয়েবসাইট অনুসরণ করে নিজেই আবেদন করুন।
আপনি কি আপনার ভিসার আবেদনের বর্তমান স্ট্যাটাস চেক করতে চাচ্ছেন বা ফি জমা দিতে সমস্যা বোধ করছেন? আমাদের কমেন্ট বক্সে জানান, আমি আপনাকে সহযোগিতা করতে পারি।
